বাংলাদেশের তরুণরা জ্বলে উঠবে কি আজ - Habiganj News | হবিগন্জ নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, July 25, 2018

বাংলাদেশের তরুণরা জ্বলে উঠবে কি আজ


ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপাজয়ী ফ্রান্সের ফুটবলারদের গড় বয়স কতো জানেন?—২৫ বছর। সুপারস্টার এমবাপ্পের বয়স মাত্র ১৯। তারুণ্যনির্ভর দলটাই ফরাসিদের দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিয়েছে। ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট বা অন্য কোনো ইভেন্ট— তরুণরাই তো স্পোর্টসের প্রাণ।
এই কথাটা চলে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে। এখানে ‘বুড়ো’রাই দলের প্রাণ। তরুণরা যেন ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। শুধুমাত্র সিনিয়রদের কাঁদে ভর করেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
গায়ানায় প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৫ সিনিয়র ক্রিকেটারের দুর্দান্ত দাপটে। এখানে তরুণ ক্রিকেটারদের ভূমিকা ছিল খুবই নগণ্য।
মাশরাফি বিন মর্তুজার বয়স ৩৪ বছর ২৭১ দিন— এখনো দলের সেরা পেসার তিনি। অথচ এই বয়সে একজন পেসার সাধারণ অবসরের চিন্তা করেন। কিন্তু সাত সাতবার অপারেশন করার পরও মাশরাফিই সেরা। এছাড়া বাকি চার সিনিয়র মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবালও ৩০-এ পা দিয়েছেন বা তার চেয়ে বেশি বয়স। এই ৫ সিনিয়রই এখনো সব দায়িত্ব পালন করছেন। তাহলে দলে তরুণ ক্রিকেটারদের কাজটা কি? তারা কবে দায়িত্বশীল হবেন?
মাশরাফি যখন বোলিং করেন, রানআপের সময় খেয়াল করলেই দেখা যায় নড়াইল এক্সপ্রেস কতটা কষ্ট করে বোলিং করেন! প্রতিটি ডেলিভারি দেওয়ার আগে নি-ক্যাপ ঠিক করে নিচ্ছেন। ম্যাশের বোলিংয়ে আগের মতো গতি নেই। প্রথম ম্যাচে তার বোলিংয়ের গতি ছিল ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে। এমন গতিতে বোলিং করতে পারেন অনেক স্পিনারই। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি তো নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে ১৩৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে একটি ডেলিভারি দিয়েছিলেন। ১১৮ কিলোমিটার গতিতে বোলিংয়ের রেকর্ড আছে ভারতের সাবেক স্পিনার অনিল কুম্বলে। সেখানে কিনা মাশরাফি ১১১-১২ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেও সফল।
টাইগার দলপতি বোলিং করেন ব্যাটসম্যানের দুর্বলতার প্রতি খেয়াল রেখে সঠিক লাইনলেন্থে। তরুণ পেসাররা কি মাশরাফিকে দেখেও কিছু শেখেন না? বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটসম্যানদেরও একই অবস্থা। সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা রান পেলে দলের স্কোর বড় হয়, না হলে নাই।
কেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা সফল হচ্ছেন, আর তরুণরা ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ? অবশ্য তামিমের কথাতেই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়, ‘এই এত দিন পরও আমাকে সব সময়ই কিছু না কিছু শিখতে হচ্ছে। ক্রিকেটে আপনি নতুন নতুন পথ না খুঁজলে এক জায়গাতেই থেমে থাকবেন। মাশরাফি ভাইয়ের কথাই ধরেন কিংবা সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ ভাই (মাহমুদুল্লাহ) আমরা প্রত্যেকেই পরের স্টেজে যাওয়ার জন্য নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি।’
সিনিয়ররা নিজেদের শাণিত করার জন্য প্রতিনিয়ত কঠোর অনুশীলন করছেন, নতুন কিছু শিখছেন— তরুণরা কি তবে স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে চলেছেন? তরুণরা সতর্ক না হলে জয় পাওয়া যে অনেক কঠিন হয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ জুটিকে আউট করা যাচ্ছিল না, শেষ পর্যন্ত যায়নি। অথচ ওই সময় মোসাদ্দেক ক্যাচ মিস করেছেন, সাব্বির ফিল্ডিং মিস করেছেন।
দিন দিন যেন বাংলাদেশ দলটা যেন অনেক বেশি সিনিয়রদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটা তো ঠিক যে, প্রতি ম্যাচেই সিনিয়ররা ভালো করবেন তা আশা করাও ঠিক নয়। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সিনিয়রদের পাশাপাশি তরুণদের সচেতনতা জরুরি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে সিরিজ। এমন ম্যাচে কি দলের তরুণরা পারবেন সিনিয়রদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো পারফর্ম করতে!
আজ গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের সঙ্গে যদি মিরাজ-মোসাদ্দেক-সাব্বিররাও দাপট দেখাতে পারেন তাহলে আরেকটি নতুন অধ্যায় রচনা হবে। যদিও এর আগে ২০০৯ সালে ক্যারিবীয়দের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা ছিল ‘দুর্বল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে নিয়মিত ক্রিকেটাররা না খেলার কারণে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলতে হয়েছিল উইন্ডিজকে। তবে এবার ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেলদের মতো শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের সুযোগ এসেছে সামনে।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনারদের ঠিকমতো খেলতেই পারেননি উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। মাশরাফির বুদ্ধিমত্তায় পেস বোলিংয়ের সামনেও তারা ছিল অসহায়। সিনিয়ররা দেখিয়েছেন ক্যারিশমা। তরুণরা কি আজও নিষ্প্রভ থাকবেন?
গায়ানার ইতিহাস কিন্তু লাল-সবুজদের পক্ষেই কথা বলছে! এই প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয়ের পর এই সিরিজে প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৪৮ রানের আরেকটি জয়। আজ কি তবে গায়ানায় তিনে তিন হতে চলেছে? —আর তিনে তিন মানেই তো বাংলাদেশের বাজিমাত।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here